আজ ২৫ নভেম্বর, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূরীকরণ আন্তর্জাতিক দিবস (International Day for the Elimination of Violence against Women)। এই দিনটির মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায় নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি চলমান এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
ডোমিনিকান রিপাবলিকের স্বৈরশাসকের হাতে ১৯৬০ সালের এই দিনে নিহত তিন রাজনৈতিক কর্মী মিরাবাল বোনদেরস্মরণে দিবসটি পালিত হয়। এটি কেবল একদিনের জন্য নয়, বরং ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পর্যন্ত বিস্তৃত ১৬ দিনের সক্রিয়তা (16 Days of Activism against Gender-Based Violence)-এর সূচনালগ্ন।
এবছরের মূল প্রতিপাদ্য: ডিজিটাল সহিংসতা
জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত এবারের বৈশ্বিক প্রচারণার প্রতিপাদ্য হলো:
“UNiTE to End Digital Violence against All Women and Girls”
এই বছরের থিমটি নারীর প্রতি সহিংসতার দ্রুত বর্ধনশীল একটি রূপ—ডিজিটাল বা অনলাইন সহিংসতা—এর ওপর আলোকপাত করছে। প্রযুক্তিগত অপব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া হয়রানি, ডিপফেক পর্নোগ্রাফি, নজরদারি, এবং সাইবার বুলিং-এর মতো সমস্যাগুলো নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক অংশগ্রহণে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
• ভয়াবহ পরিসংখ্যান: জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী তাদের জীবনে অন্তত একবার শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হন।
• অনলাইন ঝুঁকি: সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ৩৮% নারী অনলাইন সহিংসতার শিকার হন এবং ৯০-৯৫%ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার হন নারীরাই।
বাংলাদেশে পরিস্থিতি ও কর্মপরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক দিবসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান এখনো উদ্বেগজনক।
• পারিবারিক সহিংসতা: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) পুরোনো জরিপ অনুসারে, দেশের প্রায় ৮৭% নারী স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন।
• আইনি ও সামাজিক বাধা: যদিও আইনি কাঠামো বিদ্যমান, তবুও পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধ এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।
• সরকারের উদ্যোগ: বাংলাদেশ সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন হটলাইন ও সহায়তা কেন্দ্র পরিচালনা করছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বাণীতে বলেছেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি কাঠামোগত অবিচারের ফল। তিনি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এবং দোষীদের দায়মুক্তি বন্ধের আহ্বান জানান।
নারীর প্রতি সহিংসতা একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই দিবসটি সকল স্তরের নাগরিক, সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাকে একজোট হয়ে এই বৈশ্বিক মহামারি বন্ধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছে।
আপনি যদি বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের সহিংসতার পরিসংখ্যান নিয়ে আরও নির্দিষ্ট তথ্য চান, তা জানতে পারেন।