ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে, দেশটির রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক পাড়ায় (Diplomatic Quarter) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মদের দোকানটি চালু হয়েছে। এটি ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা মদের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পর প্রথমবারের মতো আইনি বিক্রির সূচনা।
কারা কিনতে পারবেন?
নতুন এই দোকানটি সাধারণ জনগণের জন্য নয়, বরং একটি অত্যন্ত সীমিত গ্রাহক গোষ্ঠীর জন্য খোলা হয়েছে:
• সম্প্রসারণের লক্ষ্য (২০২৬): সৌদি সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে আরও দুটি নতুন মদের দোকান খোলার পরিকল্পনা করছে:
• অমুসলিম বিদেশী কূটনীতিকগণ (Non-Muslim Foreign Diplomats): বর্তমানে এরাই প্রধান গ্রাহক।
• অমুসলিম সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (Premium Residency) হোল্ডারগণ: সম্প্রতি কিছু রিপোর্টে তাদেরও কেনাকাটার সুযোগ পাওয়ার কথা জানা গেছে।
কঠোর ক্রয় নিয়মাবলী
কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, মদ বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলী কার্যকর করা হয়েছে, যা মূলত অবৈধ কালোবাজার বন্ধ করা এবং একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে। নিয়মগুলো নিম্নরূপ:
1. নিবন্ধন বাধ্যতামূলক: গ্রাহকদের অবশ্যই একটি অনুমোদিত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে।
2. ক্লিয়ারেন্স কোড: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিশেষ ক্লিয়ারেন্স কোড (Clearance Code) নিতে হবে।
3. মাসিক কোটা: প্রত্যেক নিবন্ধিত ক্রেতার জন্য একটি কঠোর মাসিক কোটা (Monthly Quota) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই সীমার বেশি মদ কেনা যাবে না।
4. পরিচয়পত্র প্রদর্শন: কেনাকাটার সময় অবশ্যই পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।
সংস্কারের পথে আরও পদক্ষেপ
এই পদক্ষেপটি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ (Vision 2030) পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো দেশকে তেল-নির্ভরতা থেকে সরিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, পর্যটন এবং বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা।
• সম্প্রসারণের পরিকল্পনা: কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে আরও কয়েকটি দোকান চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
• দাহরানে (Dhahran): আরামকো (Aramco)-তে কর্মরত অমুসলিম বিদেশী কর্মীদের লক্ষ্য করে।
• জেদ্দায় (Jeddah): অমুসলিম কূটনীতিকদের জন্য আরেকটি দোকান।
সাধারণ জনগণের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল
এটা উল্লেখ করা জরুরি যে, এই আইনি বিক্রয় সুবিধা শুধুমাত্র সীমিত সংখ্যক বিদেশিদের জন্য প্রযোজ্য। দেশের সাধারণ মুসলিম নাগরিকদের জন্য মদ্যপান কঠোরভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে এবং এর লঙ্ঘন এখনও সৌদি আইনে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এই পদক্ষেপটি একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক মহলে স্বাগত জানিয়েছে, তেমনি এটি রক্ষণশীল দেশটির সামাজিক সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও সংবেদনশীল মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।