দেশের বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় রাখার নীতির অংশ হিসেবে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আজ (রবিবার) রাতে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা আগামীকাল, ১ ডিসেম্বর, সোমবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।
⛽️ নতুন দর ঘোষণা
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দাম সমন্বয়ের পর এখন প্রতি লিটার ডিজেল ১০২ টাকা থেকে বেড়ে ১০৪ টাকায় এবং কেরোসিন ১১৪ টাকা থেকে বেড়ে ১১৬ টাকায় বিক্রি হবে। উচ্চ মূল্যের জ্বালানিগুলোর ক্ষেত্রে, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১২০ টাকায়, আর অকটেনের দাম ১২২ টাকা থেকে বেড়ে হবে ১২৪ টাকা।
📈 কারণ ও নীতি
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গত বছর চালু হওয়া ‘স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় পদ্ধতি’ অনুসরণ করেই এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের গড় মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের লোকসান কমাতে এবং ভর্তুকি কমাতে এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় বাজারের দামের পার্থক্য কমানো এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য।
⚠️ প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে:
• পরিবহন খরচ: পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে গণপরিবহনের ভাড়া দ্রুতই বাড়াতে চাপ দেবেন মালিকরা।
• কৃষি খাত: সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা খাদ্যমূল্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।
• শিল্প উৎপাদন: শিল্প কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে।
সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই সমন্বয় নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও সেই অনুযায়ী দাম কমানো হবে।