বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য মোবাইল ফোন আনার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে সরকার। ১লা ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) রেজিস্ট্রেশন কার্ডধারী প্রবাসীরা কোনো ট্যাক্স ছাড়াই মোট তিনটি পর্যন্ত মোবাইল ফোন দেশে আনতে পারবেন।
নতুন এই নিয়মটি দেশে মোবাইল ফোনের অবৈধ আমদানি ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ পথে আমদানিতে উৎসাহিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
কাদের জন্য কয়টি ফোন ট্যাক্স ফ্রি?
সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশফেরত যাত্রীদের মোবাইল ফোন আনার ক্ষেত্রে সুবিধাটি দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. বিএমইটি কার্ডধারী প্রবাসী:
* যাদের বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে, তারা মোট তিনটি ফোন শুল্কমুক্তভাবে (ট্যাক্স ছাড়া) সঙ্গে আনতে পারবেন।
* এর মধ্যে নিজের ব্যবহারের একটি ফোনের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুটি নতুন ফোন বিনা শুল্কে আনা যাবে।
* যদি কেউ চতুর্থ ফোন আনতে চান, তবে তাঁকে অবশ্যই নির্ধারিত ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে।
২. বিএমইটি কার্ড নেই এমন যাত্রী (সাধারণ যাত্রী):
* যাদের বিএমইটি কার্ড নেই, তারা নিজের ব্যবহারের একটি ফোনের পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি ফোন ট্যাক্স ছাড়া আনতে পারবেন।
* এক্ষেত্রে মোবাইল ক্রয়ের বৈধ কাগজ বা চালান সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। চোরাচালানি চক্রের অপতৎপরতা রুখতে এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
✈️ ৬০ দিন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই স্মার্টফোন ব্যবহার
প্রবাসীদের সুবিধার্থে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশে ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা টানা ৬০ দিন পর্যন্ত তাঁদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (NEIR)-এ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। ৬০ দিনের বেশি দেশে অবস্থান করলে ফোনটি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
💰 শুল্ক কমানোর উদ্যোগ
দেশের বাজারে বৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনের দাম কমাতে স্মার্টফোনের বৈধ আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে বৈধ পথে মোবাইল আমদানির শুল্ক প্রায় ৬১ শতাংশ। এই উচ্চ শুল্ক যৌক্তিকভাবে কমানোর বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি আলোচনা করছে। একইসঙ্গে, দেশীয় মোবাইল উৎপাদনকারী কারখানায় উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের ওপর আরোপিত ভ্যাট-ট্যাক্সও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এই নতুন নীতিমালা মোবাইল চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দেশের মোবাইল বাজারকে আরও সুসংগঠিত করতে সহায়ক হবে।