বি এন পি এবং হাজীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল মান্নান খান বাচ্চুর রাজনৈতিক জীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ,ও মনের কথা।
১৯৭৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর মরহুম রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান বিচারপ্রতি আব্দুস সাত্তারকে সভাপতি করে জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। তখন চাঁদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অবসর প্রাপ্ত ক্যাপ্টেন করিমউদ্দিন সাহেবকে আহ্ববায়ক করে চাঁদপুর জেলা কমিটি গঠন করে। ক্যাপ্টেন করিমউদ্দিন সাহেব পশ্চিম পাকিস্তানে কাবুল মিলিটারি একাডেমিতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবের শিক্ষক ছিলেন। আমি হাজীগঞ্জে তখন ভাসানী ন্যাপ দল করি। সে সময় হাজীগঞ্জ থানা ভাসানী ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। মরহুম আশেক আলী মাস্টার সাহেব ছিলেন হাজীগঞ্জ থানা ভাসানী ন্যাপের সভাপতি। আমি আশেক আলী মাস্টার সাহেবসহ তখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাগদলে যোগ দেই। তখন আমি হাজীগঞ্জে প্রথম জাগদল প্রতিষ্ঠা করি। হাজীগঞ্জ থানা জাগদলের আহবায়ক ছিলেন আশেক আলী মাস্টার সাহেব, আর যুগ্ম আহ্ববায়ক ছিলাম আমি।
১৯৭৮ সালে ১লা সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান সাহেব বাংলদেশে জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন (বিএনপি) । প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব দলের সভাপতি হন এবং ডাঃ বদরুদ্দোজা চৌধুরী দলের মহাসচিব হন। চাঁদপুর জেলা বিএনপির কমিটি গঠন হয়। বিএনপির এই জেলা কমিটির আহবায়ক হন ক্যাপ্টেন করিমউদ্দিন সাহেব। আমি আশেক আলী মাস্টার সাহেবসহ আমরা তখন আবার এই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে যোগ দেই। আমি হাজীগঞ্জ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্ববায়ক হই। তারপর অনেক কষ্ট করে ৩০ দিনে হাজীগঞ্জ বিএনপি প্রতিষ্ঠা করি।
১৯৮১ সালের ৩০শে মে মরহুম রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিচার প্রতি আব্দুস সাত্তার অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ জেনারেল এরশাদ জোর করে প্রেসিডেন্ট আব্দুস সাত্তার সাহেব থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন। এবং মার্শাল’ল জারি করেন।
এরশাদ ক্ষমতায় এসে জাতীয় পার্টি গঠন করেন । তখন বিএনপির অনেক নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। বিএনপি নেতা শূন্য হয়ে যায়। এসময় বেগম খালেদা জিয়া সভাপতি হয়ে পার্টির দায়িত্ব নেন এবং পার্টির হাল ধরেন । এরশাদের আমলে বিএনপির উপর অনেক জুলুম অত্যাচার হয়েছে,সেই জুলুমের শিকার আমি হয়েছি। তখন জেলা ও থানা পর্যায় বিএনপির যারা ছিল তখন তারা সব নীরব হয়ে যায়। হাজীগঞ্জে তখন যারা বিএনপি করতো, তারা সব নীরব হয়ে যায়। দলকে সমর্থন করে কিন্তু কেউ রাস্তায় নামতে রাজি না। সে সময় আমি একাই ছাত্রদলকে নিয়ে এরশাদের এই নয় বছর হাজীগঞ্জ বিএনপির হাল ধরি। সেই সময় বিএনপির প্রতি আমার এই নিবেদিত প্রাণ দেখে সবাই আমার নাম রাখে !!বিএনপির বাচ্চু!!
বিএনপির জন্মের আজকে ৪৭ বছর । এই ৪৭ বছরের মধ্যে আমি এক দিনও বিএনপি ছেড়ে যায়নি। ৩৫ বছর হাজীগঞ্জ বিএনপির থানা সভাপতি ছিলাম । ৩০ বছর চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ছিলাম। বর্তমান চাঁদপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা।
আমি বিএনপি থেকে দুই-দুইবার হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। আরও দুইবার আমি পাশ করেছি কিন্তু আওয়ামীলীগ জোর করে নিয়ে গেছে। মেয়র থাকাকালীন পৌরসভা থেকে একবিন্দুও অর্থনৈতিক সুবিধা নেইনি। আমি ইচ্ছে করলে ৩০ কোটি টাকা অবৈধভাবে নিতে পারতাম এবং কোনরকম স্বজন-প্রীতিও করিনি। আর দলের শুনামও নষ্ট করিনি।
১৯৯৫ সালে বিএনপি তখন রাষ্ট ক্ষমতায় । আওয়ামীলীগ তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সারা দেশে চরম আন্দোলন গড়ে তোলে। সে চরম হরতাল এবং আন্দোলনের সময় হাজীগঞ্জের আওয়ামীলীগ আমার সান্ত্বনা সিনেমা হল পেট্টলের আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। আমি শুধু দেয়াল ছাড়া কিছুই পাই নি। সে হল আবার ৩ মাস লাগিয়ে পুনরায় নির্মাণ করতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ হয়। বর্তমান টাকার মূল্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
২০১৮ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন আগে বর্তমান বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মমিন সাহেবের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হই। আমার বয়স তখন ৭০। এই ৭০ বছর বয়সে দল ও দলের প্রার্থীর জন্য জেল খাটি। প্রায় এক সপ্তাহ জেলে ছিলাম।
৯ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হাজীগঞ্জ উপজেলা কমিটি ও পৌরসভা কমিটিতে আমাকে একজন সাধারণ সদস্য ও রাখা হয়নি।
৪৭ বছর আগে বিএনপির নামে যেই চারা গাছটি আমি রোপণ করেছি। আজ সেটা এক বিরাট বট বৃক্ষ । আমরা এখন যারা দল করি তারা সেই বিরাট বট বৃক্ষের শাখা প্রশাখা।
Abdul Mannan Khan Bachu পেইজ থেকে সংগ্রহ ।